ই কমার্স বিজনেস কত প্রকার ও কি কি

ই কমার্স বিজনেস কত প্রকার ও কি কি

আসসালামুয়ালাইকুম, আজকের এই টিউটোরিয়ালয়ে আমি আপনাদের সাথে ই কমার্স বিজনেস কত কত প্রকার ও কি কি এই সম্পর্কে আলোচনা করবো । আমরা যারা ই কমার্স বিজনেস করতে চাই তাদের অবশ্যই ই কমার্স সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা এবং এর ধরণগুলো সম্পর্কে সম্পর্কে জানা উচিত । তাহলে চলুন শুরু করা যাক ।

ই-কমার্স কি ?এক কথায় যদি ই-কমার্স বা ইলেক্ট্রনিক কমার্সকে বলতে চাই তাহলে বলতে হবে ই-কমার্স হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে পন্য বা সেবা ক্রয় বিক্রয় করা এবং সম্পূর্ণ লেনদেন সম্পন্ন করা। এখানে আমাদের অনেকের একটা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে ই-কমার্স মানেই শুধু প্রোডাক্ট সেল, আসলে এই ধারণাটা ঠিক না। ইলেক্ট্রনিক উপায়ে সার্ভিস সেল করলে সেটাও ই-কমার্স এর অন্তর্গত হবে।

এবার ই-কমার্সের প্রকারভেদ বা ধরণগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাকঃ

👇ই-কমার্সে ৪ ধরণের মডেল দেখা যায়, নিচে সেগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

🟥১। B 2 C (Business to Consumer) Model:ই-কমার্স বিজনেসে B2C মডেলের বিজনেস প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সরাসরি ক্রেতা বা ভোক্তার নিকট সেল করে থাকেন। আমাদের দেশের বেশিরভাগ ই-কমার্স বিজনেস এই মডেলই ফলো করে।যেমনঃ আপনি আপনার প্রয়োজনীয় কোনো একটা পন্য কোনো একটা ওয়েবসাইট থেকে ক্রয় করলেন, যেহেতু আপনি একজন সাধারণ ক্রেতা বা ভোক্তা তার মানে আপনি যে ওয়েবসাইট প্রোডাক্ট ক্রয় করেছেন তাদের ই-কমার্স বিজনেস মডেল হলো B 2 C মডেল।

🟩২। B 2 B (Business to Business) Model:B2B মডেল হলো এমন ই-কমার্স বিজনেস মডেল যেখানে একটা বিজনেস তার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস অন্য একটি বিজনেসের কাছে সেল করবে ইলেক্ট্রনিক উপায়ে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে।যেমনঃ কোম্পানি‘ক’ তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোম্পানি ‘খ’ এর কাছে তার প্রোডাক্ট সেল করে থাকে, এটা B2B ই-কমার্স বিজনেস মডেল।

🟦৩। C 2 C (Consumer to Consumer) Model:এই মডেলে ভোক্তাই ভোক্তার নিকট পন্য বা সেবা বিক্রয় করে থাকেন।যেমনঃ আপনি আপনার পুরনো মোবাইল সেট একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রয় করলেন যা আরেকজন সাধারণ ক্রেতা বা ভোক্তা ক্রয় করলো, এটাই হলো C2C মডেল।

🟧৪। C 2 B (Consumer to Business) Model:এই C 2 B মডেলে একজন ভোক্তা বা সাধারণ মানুষ তার পন্য বা সেবা কোনো একটি বিজনেসের কাছে সেল করে থাকে।যেমনঃ যেমন কোনো ফটোগ্রাফার যখন তার তোলা ছবির লাইসেন্স আলোকচিত্র বিক্রয়কারী কোনো ওয়েবসাইটের কাছে সেল করে থাকে তখন সেটা ই-কমার্সের C2B মডেলের মধ্যে পড়ে।উপরের ৪ টি মডেল হল ই-কমার্স বিজনেসের মৌলিক ৪ টি মডেল। এই মডেলগুলোই আবার বিভিন্ন ধরণের হতে পারে, নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলোঃ👇👉রিটেইলঃ এটা ই-কমার্সের খুবই কমন একটা ধরণ। এই ধরণের ই-কমার্সে খুচরা মূল্যে পন্য বিক্রয় করা হয়।👉হোলসেলঃ 

এক্ষেত্রে পন্য বা সেবা পাইকারি মূল্যে বিক্রয় করা হয়। ই-কমার্সের এই ধরণ খুব একটা দেখা যায়না।

👉 সাবস্ক্রীপশনঃ এই ক্ষেত্রে ক্রেতা বা ভোক্তারা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ সাবস্ক্রীপশন ফী এর বিনিময়ে সেবা ভোগ করার সুযোগ পায়। সাধারণত বিনোদনের ওয়েবসাইটগুলোতে এই ধরণের ই-কমার্স লক্ষ্য করা যায়।

👉ডিজিটাল প্রোডাক্টঃ সাধারণত সফটওয়ার, ওয়েবসাইট থীম, পিডিএফ বুক এগুলোকে ডিজিটাল প্রোডাক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরেকটু বৃহদাকারে বললে ডাউনলোডেবল যেসব প্রোডাক্ট সেগুলোই ডিজিটাল প্রোডাক্ট। আর এমন ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়েও গড়ে উঠতে পারে ই-কমার্স বিজনেস।

👉ফিজিক্যাল প্রোডাক্টঃ দৃশ্যমান প্রোডাক্টগুলোকে ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বলা হয়ে থাকে এবং আমাদের দেশে ই-কমার্স বিজনেসগুলো বেশিরভাগই ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট নিয়েই বিজনেস করছে।

👉ক্রাউড ফান্ডিংঃ অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় যদি খুবই ইনোভেটিভ কোনো প্রোডাক্ট নিয়ে কেউ কাজ শুরু করেন সেক্ষেত্রে তারা আগেই মার্কেটে ভোক্তাদের কাছ থেকে অ্যাডভান্স পেমেন্ট গ্রহণ করেন। এভাবে ফান্ডিং করাটাকে একপ্রকারের ক্রাউড ফান্ডিং বলা হয়।

👉ড্রপশিপিংঃ এই ধরণের ই-কমার্স বিজনেসে প্রোডাক্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণত ৩য় কোনো পক্ষ হয়। যেমনঃ আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জকি সাহেবের হেডফোন ক্রয়ের অর্ডার গ্রহণ করলেন এবং অর্ডারটা এবিসি কোম্পানির কাছে ট্রান্সফার করলেন এবং তারাই সেটা রহিম সাহেবের কাছে পৌঁছে দিলো, এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটের বিজনেসটিই হলো ড্রপশিপিং।

👉সার্ভিসঃ ই-কমার্সে শুধুমাত্র পন্য নয় সার্ভিস বা সেবাও সেল করা যেতে পারে। এবং এক্ষেত্রে ভোক্তা বা ক্রেতা গৃহীত সার্ভিসের জন্য পেমেন্ট করে থাকে।

ই কমার্স ওয়েবসাইট বানানোর জন্য এই লিঙ্ক গিয়ে আমাকে মেসেজ দিতে পারেন । Contact Page Link

Leave a Reply